‘ভিডিও কলে বোনদের আগুন দেখানোর পর ছেলেটার আর খোঁজ মেলেনি’

ছেলেটা আমার বেশি লেখাপড়া করেনি। ডিপোতে ড্রাইভারের চাকরি করতো। আগুন লাগার পর বোনদের মোবাইলে ভিডিও কল করে দেখাচ্ছিল। হঠাৎ জোরে শব্দ হয়ে ভিডিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর ছেলেটাকে পাচ্ছি না।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধ নুরুল আমিন। মঙ্গলবার (৬ জুন) ছেলে মো. আকতার হোসেনের খোঁজে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছবি হাতে ছোটাছুটি করছিলেন তিনি।

৭২ বছর বয়সী নুরুল আমিনের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব-চালিয়াপাড়া গ্রামে।

নুরুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেদিন আগুন লাগে, সেদিন ভিডিও কল করে বোনদের আগুন দেখাচ্ছিল আকতার। এরপর হঠাৎ বিকট শব্দ হয়ে তার মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে কোথাও পাইনি। হাসপাতালের সব ওয়ার্ডে খুঁজেছি, কোথাও নেই।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা দিয়েছি। তারপর হাসপাতালে রাখা কয়েকটি মরদেহ আমাদের দেখানো হয়েছে। তবে সবগুলো দেখাচ্ছে না। মরদেহগুলো চেনারও উপায় নেই।’

নুরুল আমিন বলেন, ‘খুব অল্প লেখাপড়া করেছে আমার ছেলেটা। বিএম ডিপোতে ড্রাইভারের কাজ করতো ও। ছেলেটা সাত দিন আগে আমার জন্য বিকাশে টাকা পাঠিয়েছিল। টাকা পাঠিয়ে ফোন করে বলেছিল, আব্বা আপনার জন্য টাকা পাঠাইছি। বিকাশ থেকে টাকাগুলো তুলে নেন। ছেলের সঙ্গে এটাই আমার শেষ কথা।’

পরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ নুরুল। আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘এ মাসের বেতন পেলে ছেলেটা আমার বাড়িতে আসতে চেয়েছিল। সব শেষ হয়ে গেলো, ও আর আমার বাড়িতে গেলো না..।’

পুলিশ বলছে, মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর কেমিক্যাল থাকা কনটেইনারে একের পর এক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে।

প্রায় ৬১ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিএম কনটেইনার ডিপোতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.